তারিখ : ২৪ মে ২০১৮, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

বসন্তের একগুচ্ছ কবিতা

বসন্তের একগুচ্ছ কবিতা
[ভালুকা ডট কম : ১৪ ফেব্রুয়ারী]
বসন্ত আসে
বসন্ত আসে, দুলিয়ে দিতে
অর্ধতপ্ত ঝলসানো ধুলাতে
চৈত্রের ফাঁকা মাঠের নিঃসঙ্গতায়
আর,
পিপাসী প্রেমিকার ঠোঁটের পেপসিতে!

বসন্ত আসে,
পরভৃতের সমাবেশ
পিকের সুর করা
বাজনা ছাড়ায় অসংখ্য গান
মনে তারই ছবি এঁকে দিতে।

বসন্ত আসে,
ভাসিনীর, তিল তিল করে গড়ে উঠা
যৌবনের কথা বলতে।

বসন্ত আসে,
অভীক প্রেমিকের
অভিলাষ,
ফুলে মুড়ানো ভালবাসার কথা বলতে।

বসন্ত আসে,
কাঞ্চন নিষিদ্ধ করে
ফুলেল গাত্রে।
বসন্ত আসে,
বারীন্দ্র পাড়ে
অপ মওজের সমান্তরালে
দিকে দিক প্রকৃতি মাতাতে!

বসন্ত আসে,
অটবির হাসি ফুটাতে
দ্রুমের শরীর জুড়ে
শকুন্তের কনসার্ট ভেন্যূ করে
ঋতুর সেরা সিলেবাস হতে!

বসন্ত আসে,
কিশোরীর গায়ে প্রকৃতির গন্ধ দিতে
ষোড়শীর না বলা কথা
আর,
বসন্ত আসে
পুরুষের ঘরে
ললনার বান্ধবী রূপে।

বসন্ত আসে,
কিশোরের নির্বাক চেয়ে থাকা
তরুণের মাতাল হাওয়া
আর,
যুবকের "আমি পুরুষ ভাবাতে"।

বসন্ত আসে,
অরুনের দিবার প্রথমায় মিষ্টি হাসি
আর পশ্চিমায় ঢলে পড়া
লোহিত মার্তণ্ডে!
বসন্ত আসে,
পবনে আতর
আর,
প্রকৃতির উত্তুঙ্গে!

বসন্ত আসে,
প্রিয়শীকে প্রথম দিনের
মতো দেখাতে
বসন্ত আসে,
পাদপের অশেষ শ্রম
মৃত্তিকায় লুটাতে!

বসন্ত আসে,
গ্রীষ্মকালের ইনকিলাবে
হার না মানা,
সুন্দরীর আয়নায় দাঁড়ানো
আর,
সুন্দরের যায় যায় দিন কবিতার পাতাতে!

বসন্ত আসে,
রবী ঠাকুরের "শেষ বসন্ত"
আর,
"আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে"।

বসন্ত আসে,
নজরুল তোমার
"এলো বনান্তে পাগল বসন্ত"
আর,
"বসন্ত এলো এলো এলো রে"

বসন্ত আসে,
শরৎচন্দ্রের "বসন্তের গো ধূলি "
হুমায়ূন তোমার
"রোদন ভরা এ বসন্ত"
আর,
"বসন্ত বিলাপে"।

আর বসন্ত আসে,
বসন্ত আসে,
সুফিয়া কামাল তোমার
সঙ্গী হারানো
"তাহারেই পড়ে মনে"।

***

এলো বসন্ত
এলো বসন্ত,বিহঙ্গ কুচকাওয়াজে
উন্মাদ হাওয়া ধারার সৃষ্টি করে
এক আশ্চর্য মায়া নিকেতন,
খসে পড়া তরুর বাসন্তী
ডালের সন্তানেরা তৈরি করে
মড় মড় আলোড়ন।

সাহিত্যের আঙ্গিনায় দিলাম আওয়াজ
বসন্তের আহ্বান,
রঙ্গিন ডানার একটি পাখি
কী জানি, কোত্তেথেকে যে কাম
হিজল গাছের ডালে বসে
মিষ্টি সুরে করে গান।

এলো বসন্ত
হৃদয়ের তমিস্রা টুকু
বিতাড়িত করে,
অপলাপ করবে না কেউ
অবিমিশ্র অনুপম
ঘুচে দিতে তিমির
আহ্লাদে অভিনন্দিত রওশন।

**
তুমি বসন্ত
বসন্ত দেখতে আজ আর
গাছে গাছে দেখবোনা উঁকি মেরে
কুহু শুনতে হবে না আমায়
আর কান পেতে থাকতে।

অনুজ্ঞা না করতেই
আহব করলে তুমি
পুরো বসন্ত আজ তোমাতে।
অভিপ্রায় আর কোথায় লুকাবো সেতু?
হৃদয় আজ ঊর্ধেবহন
লহরে ঊর্মিতে খেলা করে।

তবুও ওজর আর নেই আজ
চলো, যাবে বাইরে?
কলকণ্ঠ শ্রবণবিবর
অবধি মাতিয়ে তোলে।
ওজর নেই আজ
কল্য শব্দটি লুকিয়ে নিলাম
আজকের সমাচারে!

চলো, যাবে বাইরে?
মেঠো পথে হাঁটতে
মন আজ মননে ব্যাকুল
একটি বসন্ত যে আমার নামে।
চলো, যাবে বাইরে?
পৃথ্বী আজ মুলাকাত আঙ্গুলে
দেখতে চাইছে সরণিতে।

বসন্ত আজ অংশহীন হতো
দ্বিরেফ আমার দ্বন্দ্ব হতো
তোমার অনুপস্থিতিতে!
প্রণয়ী,
চলো, যাবো বাইরে
একটি কলিকা দিব
তোমার কানে পরিয়ে।
চলো, যাই বাইরে
চলো, যাবে বাইরে?
নীড়ে এসে তবু আরব হবে
তুমিই বসন্ত, বসন্ত তোমাতে!

বার্তা প্রেরক/লেখক
রুবাইত হাসান
পহেলা ফাল্গুন ১৪২৪
উত্তরা, ঢাকা।






সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

সাহিত্য পাতা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১৯৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই