তারিখ : ২১ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

সখীপুরে ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দিশেহারা কৃষক

সখীপুরে ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দিশেহারা কৃষক
[ভালুকা ডট কম : ২২ এপ্রিল]
টাঙ্গাইলের সখীপুরে ইরি-বোরো মৌসুমের শেষ সময় এখন। মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালী ফসল । ধান কাটার উৎসবে মেতে উঠবে কৃষক পরিবার। কৃষকদের চোখে-মুখে ফসল ঘরে তোলার হাসি যেন বাঁধ মানে না।  এ যেন প্রতিটি কৃষকের আজন্ম এক স্বপ্ন। কিন্তু কৃষকের সেই স্বপ্নে আগুন দিয়েছে ব্লাস্ট নামের ছত্রাক।

ব্লাস্টের আক্রমণে বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ ক্রমেই পুড়ে যাচ্ছে। দূর থেকে দেখে মনে হয়, মাঠের ফসল যেন পেকে গেছে। ব্লাস্ট ছত্রাকে আক্রমনে ক্ষেতে ধানের ছড়ায় কোন চাল নেই! কৃষকের মুখ মলিন। ভাষাহীন নিস্তব্দ তাঁরা। শুধুই ফ্যাল ফ্যাল করে জমির দিকে তাকিয়ে থাকেন। সোমবার সরজমিন উপজেলার কীর্ত্তণখোলার ধুমখালী, কচুয়া, নয়া কচুয়া, পাথারপুর, ইছাদিঘী, কালিদাস, বড়চওনা,ছোটমৗশাসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। কৃষকের চোখের সামনেই ক্ষেতের সোনার ফসলগুলো ধীরে ধীরে পুড়ে যাচ্ছে। এ দৃশ্য একজন কৃষকের কাছে বড়ই নির্মম।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। রোপণের কিছুদিন পরেই কিছু ক্ষেতে ব্লাস্টের আক্রমণ দেখা দেয়। কৃষি অফিস এ রোগে আক্রান্ত এলাকায় ব্যাপক প্রচারণাসহ কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে  আসছেন। কৃষি অফিসের তত্বাবধানে ও পরামর্শে জমির অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এতে করে কৃষকের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে । কিন্তু যখন আর মাত্র কয়েকদিন পর কৃষক পাঁকা ধার কেটে ঘরে তুলবে ঠিক তাঁর আগ মুহুর্তে এসে ওই ফসলে পুনরায় ব্লাস্টের আক্রমণে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। ধানের শীষ বের হওয়ার তিন-চারদিন পরই শীষগুলো মরে যাচ্ছে। ধানের পেটে কোনো চাল নেই। মনে হয় ধানগুলো পেকে গেছে। কাছে গিয়ে দেখা যায় শীষের সবক’টি ধানই চিটে। এতে কোন চাল নেই।

কৃষি অফিস আরো জানায়, সাধারণত ব্রি-২৮ জাতের ধানে এ রোগটি বেশি আক্রমণ করেছে। আগামীতে কৃষকদের ব্রি-২৯ জাতের বীজ রোপণ করার পরামর্শ দেয়া হবে। এ বিষয়ে একাধিক কৃষক ও স্থানীয় সার-বীজ ডিলারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ধানের চারা রোপণের কিছুদিন পর সবুজ পাতায় কালো দাগ দেখা দেয় এবং ধানের পাতা পচে যেতে থাকে। ওই সময় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ট্রাইসাইক্লাজোল উপাদানের ট্রুপার-৭৫ ডব্লিউ পি, সেলট্রিমা জাতীয় বিভিন্ন ছত্রাকনাশক স্প্রে করা হয়। প্রথম দিকে কিছুটা কমলেও পরে আবারও আক্রমনের শীকার হন চাষিরা।  কীটনাশক ব্যবহার কোরও করেও কোন সুফল পাচ্ছেন না বলে জানান কৃষকরা।

উপজেলার ছোটমৌশা গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন বলেন,আমার ধানক্ষেতে তিন চার বার বিষ দিওয়াও ভালো হইলো না । হিনজাগুলো মইরা যাচ্ছে। এহন আমরা পরিবার নিয়ে কীভা করুম। উপজেলার পাথারপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, বিদ্যুতের হাজার হাজার টাকা বিল দিয়া সেচ দিয়েছি। টাকাও গেল, ধানও গেল। এখন আর কোনো আশা নাই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফায়জুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন,  ট্রাইসাইক্লাজোল উপাদানের ট্রুপার-৭৫ ডব্লিউ পি, সেলট্রিমা জাতীয় কীটনাশক স্প্রে করার পর নতুন করে এ রোগ আক্রমণ করার কথা নয়। অনেক সময় কৃৃষক স্প্রে’র ডোজ না মেনে কম পরিমাণে স্প্রে করেন। যে কারণে হয়তো ছত্রাকটি পুরোপুরি ধ্বংস হয় না। আমরা উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। তারপরও শেষ রক্ষা হবে কি না জানি না।’ তিনি কৃষকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই