তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

সমস্যায় জর্জরিত শার্শার ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সমস্যায় জর্জরিত শার্শার বুরুজ বাগান ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
[ভালুকা ডট কম : ১৯ মে]
চিকিৎসক স্বল্পতা, যন্ত্রপাতি অপ্রতুল, অপরিচ্ছন্নতা, রোগীদের ওষুধ না দেয়া ও সরকারী ওষুধ চোরাই পথে বিক্রিসহ নানা সঙ্কটে জর্জরিত শার্শা উপজেলার একমাত্র সরকারী বুরুজবাগান (নাভারন) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

জানা যায়, শার্শার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৬২ সালে নির্মিত হাসপাতালটি এখন শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলার মানুষের একমাত্র নির্ভরতার জায়গা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোনো সুযোগ-সুবিধাই বাড়েনি এ হাসপাতালে। লোকবল, যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সামগ্রীসহ সবকিছু এখনও পুরনো ধাঁচের। হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুইশ’ রোগীর সমাগম ঘটে। গড়ে দশ থেকে পনের জন রোগী ভর্তি হন।

তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে মেডিকেল কর্মকর্তার পদ সংখ্যা ২২টি থাকলেও খাতা কলমে ৮ জন, বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩ জন। বাকিরা কেউ ছুটিতে কারো আবার ডে-অফ। ২০১৫ সালের ৩ মার্চ থেকে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখানে কোনো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। বহির্বিভাগে টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও চিকিৎসক না থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালটিতে একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি প্রায় এক বছর যাবৎ নষ্ট। অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় গরিব ও অসহায় রোগীদের বাধ্য হয়ে ৩৬ কিলোমিটার দূরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগ থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরের ক্লিনিকে পাঠানো হয়। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার মান দিন দিন নিম্নমানের হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এখানকার রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পান না। জরুরি বিভাগে সাধারণ চিকিৎসা দেয়া, রোগীদের অতি নিম্নমানের খাবার ও নোংরা বিছানা পরিবেশন করা হয়। শৌচাগারগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। সার্জারি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও অপারেশন থিয়েটার ও যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়েনি। হাসপাতালে নেই কোনো ডেন্টাল, গাইনি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৮টায় অফিস শুরুর নিয়ম থাকলেও ডাক্তার আসেন সাড়ে ১০টায়। উপজেলার একমাত্র এ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীরা সকাল ৮টার সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ১০টার আগে বহির্বিভাগে টিকিট দেয়া হয় না। অনেক সময় টিকিট সংগ্রহ করেও চিকিৎসকের দেখা পান না রোগীরা।

আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. এনাম উদ্দিন বলেন, জরুরি বিভাগে আমার কোনো ডিউটি করার কথা ছিল না। আসলে জরুরি বিভাগে কোনো মেডিকেল কর্মকর্তার ডিউটি করার নিয়ম নেই। আমরা যেটুকু করি তা অনুরোধক্রমে। সেখানে শুধু মাত্র একজন সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তার ডিউটি করার নিয়ম আছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অশোক কুমার সাহা জানান, হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় খাতা-কলমে উন্নীত হলেও কোনো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। পর্যাপ্ত ডাক্তার ও জনবলের অভাবে আমরা জনগণকে তাদের চাহিদামত সেবা দিতে পারছি না বলে জানান। #





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই