তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

ভালুকায় ভূয়া ডাক্তারকে আটক করে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী

ভালুকায় ভূয়া ডাক্তারকে আটক করে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী
[ভালুকা ডট কম : ২০ মে]
ভালুকা উপজেলা সদরে থেকে আশরাফ উদ্দিন ওরফে জুলফিকার নামে এক ভূয়া ডাক্তারকে ডা.রেজাউল করীম অপুর নেতৃত্বে গত শুক্রবার দুপুরে আটক করে। এ সময় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের ভালুকা প্রতিনিধি পরিচয় দানকারী,ভালুকার খবর অন লাইন পত্রিকার সম্পাদক ও অভ্যূদয় নামে সামাজিক সংগঠনের তথাকথিত সভাপতি ও ভালুকা প্রেস ক্লাবের সদস্য আসাদুজ্জামান সুমন তাঁর তিন বন্ধুকে নিয়ে ওই ভূয়া ডাক্তারকে তাঁর অফিসে তোলে নিয়ে মারধর করে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। এ সময় ওই ভূয়া ডাক্তারের কাছ থেকে নগদ টাকা,সোনার আংটি ও একটি বিদেশী ঘড়ি জোরপূর্বক রেখে রাত ৮টার সময় তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশের চাপের মুখে নামদারী সাংবাদিক সুমন ১০হাজার টাকা,আংটি ও ঘড়ি ফেরত দিয়েছে।

সুত্রে জানাযায়, আশরাফ উদ্দিন ওরফে জুলফিকার নামে এক ডাক্তার নিউ সেবা হসপিটাল এ্যান্ড ল্যাবে গত ৪মাস যাবত রোগি দেখছেন। স্থানীয় আব্দুল লতিফের ছেলে ডা.রেজাউল করীম অপু ওই ডাক্তারের কোন ডাক্তারি সনদ নেই জেনে শুক্রবার দুপুরে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় তিনি কোন সনদপত্র প্রদর্শন করতে পারেননি। এ খবর পেয়ে ভালুকা প্রেস ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক,দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের ভালুকা প্রতিনিধি পরিচয় দানকারী, ভালুকার খবর অন লাইন পত্রিকার সম্পাদক ও অভ্যূদয় নামে সামাজিক সংগঠনের তথাকথিত সভাপতি আসাদুজ্জামান সুমন তাঁর তিন বন্ধুকে নিয়ে ওই ভূয়া ডাক্তারকে তাঁর ভালুকার খবর অনলাইন পত্রিকার অফিস ঢাকা ময়মনসিংহ মহা সড়কের পাশে হাই স্কুল রোড়ে সিরাজুল ইসলামের বাসায়  নিয়ে যায়। সেখানে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সুমনের নেতৃত্বে তিন বন্ধু তাঁকে মারধর করে ভূয়া ডাক্তারের কাছে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন। এ সময় জুলফিকারকে দিয়ে তাঁর স্ত্রী সুমী আক্তারকে ফোন করায় বিকাশে অথবা রকের্টে টাকা পাঠানোর জন্য। সুমী আক্তার তাঁর স্বামীকে উদ্ধার করার জন্য মির্জাপূর থেকে রকের্টে মাত্র ৩০হাজার টাকা সুমনের কাছে পাঠায়।এতে চাহিদা মোতাবেক আশরাফ উদ্দিন (জুলফিকার) টাকা পরিশোধ করিতে না পারায় সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে জুলফিকারের কাছে থাকা নগদ ২হাজার টাকা,একটি সোনার আংটি ও একটি বিদেশী ঘড়ি জোরপূর্বক রেখে দিয়ে,তথাকথিক সাংবাদিক সুমন থানায় ফোন করে এ,এস, আলীর কাছে তাঁকে হস্তান্তর করে দেয়।

জুলফিকার থানায় আটক হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। জুলিফকার বলেন তাঁকে সাংবাদিক সুমনের নেতৃত্বে আর ২জন তাঁকে সুমনের ভালুকা খবর ডট কম অফিসে আটক করে মারধর করে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। তিনি সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১লাখ টাকা নগদ ও  বাকী টাকা চেক দেয়ার জন্য ব্যাপক মারধর করে। তাদের অত্যাচারে তার স্ত্রীর মাধ্যমে রকের্টে ৩০হাজার টাকা, তার সাথে থাকা ২হাজার,একটি ১৪হাজার টাকা মূল্যের আংটি ও একটি বিদেশী ঘড়ি জোরপূর্বক রেখে দিয়ে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে পুলিশের কাছে তোলে দেয়।

এ বিষয়টি ভালুকা মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার আব্দুল মান্নান সবিস্তারে জানার পর নামদারী সাংবাদিক সুমনকে ফোন করে মামলার ভয় দেখানোর পর শনিবার লোক দিয়ে নগদ ১০হাজার টাকা,সোনার আংটি ও ঘড়িটি ফেরত পাঠায়। বাকী টাকা আজ(রবিবার) ফেরত দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ভালুকার  আঙ্গারগাড়ার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন ভালুকা ডট কম কে বলেন,সুমনের কাছে ঘর ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে সুমন তার ভালুকার খবর অনলাইন পত্রিকায় দ্বানবীর,আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি এম,এ ওয়াহেদের বিরুদ্ধে একটি নিউজ করে। পর আবার নাকে খদ দিয়ে সেই সংবাদটি অন লাইন থেকে মূছে ফেলে দিয়ে এম,এম ওয়াহেদের কাছে কর জোড়ে ক্ষমা চেয়ে পাড় পেয়ে যায়।

একই এলাকার আবুল হাসেম ভালুকা ডট কম কে জানান,কয়েক মাস পূর্বে ভালুকার ফাহিম ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের হামলার ঘটনায় ময়মনসিংহ সিনিয়র জুটিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে শাহ মোঃ আলী আজগর বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করেন। সেই মামলটিও ভালুকা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টুর মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তি হয়। এরও কয়েক মাস পূর্বে গুন্ডামি করতে গিয়ে এ সুমন ভালুকা ক্লাবের সদস্য ও খারুয়ালী এলাকার যুবকদের হাতে গণপিটুনী খেয়ে আহত হয়ে তাকে গায়ের জামা ছাড়াই বাসায় ফিরতে হয়ে ছিলো।

সাংবাদিকতার নাম দিয়ে সব শেষে জুলফিকার নামে ভূয়া ডাক্তারের কাছ থেকে নগদ টাকা,সোনার আংটি ও ঘড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেয়েছে। নামদারী এ সাংবাদিক সুমনের কারণে ভালুকা প্রেস ক্লাব তথা ভালুকার এ পেশায় নিয়োজিত সাংবাদিকদের মানকুল সবই নষ্ট হচ্ছে।

এ ব্যাপরে সুমনের বক্তব্য নিতে তার মোবাইলে বারবার কল করেও তাকে প্ওায়া যাযনি ।এ ব্যাপরে ডা.রেজাউল করিম অপু ভালুকা ডট কম কে জানান গত শুক্রবার দিন সুমন আমাকে ফোন করে নিউ সেবা হসপিটালে আসতে বলে আমি ওখানে পৌঁছানোর পর একজন ডাক্তারের কাগজ পত্র আমাকে ভেরিফিকেশন করতে বলে সেই ডাক্তারের নাম আশরাফ উদ্দিন ওরফে জুলফিকার আমি ওই ডাক্তারের কাগজপত্র দেখতে চাইলে আমার কাছে মনে হয় সে ভুয়া ডাক্তার কিন্তু সে তার সঠিক কাগজপত্র দেখানোর জন্য কিছু সময় চায়,তখন নিউ সেবা হসপিটাল এ্যান্ড ল্যাবের মালিক আমাদেরকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে এই বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন কিন্তু আমি একজন ডাক্তার হিসাবে নিজের পেশার সাথে এমন ভাবে আপোষ করতে রাজি না হলে সুমন ওই নামধারী ডাক্তারকে হসপিটালে থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসে তার অফিসে ।অফিসে আসার পর আমি ওখান থেকে জুমার নামাজের জন্য চলে যায় এবং সুমনকে বলে আসি কাগজ পত্র আসলে আমাকে কল করার জন্য এবং সে বলে যা কিছু করা হবে আপনাকে জানানো হবে কিন্তু বিকেল বেলায় আমি সুমনের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে বুঝতে পায় সে ঐ ডাক্তারকে পুলিশে সোপর্দ করেছে এছাড়া আমি কিছুই জানিনা।

ভালুকা মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার আব্দুল মান্নান তালুকদার জানান, আমার কাছে ভূয়া ডাক্তার জুলফিকার জানান, তার কাছে থেকে সুমন সহ আরো ২জন মিলে নগদ ৩২হাজার টাকা,আংটি ও ঘড়ি রেখে তাঁকে পুলিশ সোপর্দ করে। আমি সুমনকে ফোন করলে সে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে নগদ ১০হাজার টাকা,আংটি ও ঘড়িটি শনিবার রাতে তার এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে ফেরত দিয়ে যায়।বাকী টাকা আজই ফেরত দেবে বলে সে জানিয়েছে।

ভূয়া ডাক্তার আটকের ঘটনায় ভালুকা মডেল থানার এ এস আই আলী হোসেন বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে নিউ সেবা হাসপাতালের ডা: আশরাফ উদ্দিন (জুলফিকার), মালিক লুৎফুর রহমান, ম্যানেজার আবু বকর ছিদ্দিক কে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

কোন ব্যাক্তিকে আটক করে মুক্তিপণ দাবী করা এবং মুক্তিপণ নেয়া এবং তা স্বীকার করে মুক্তিপণে কিছু অংশ পুলিশের কাছে ফেরত দিলেই কি অপরাধ মুক্ত হওয়া যায় এমন প্রশ্নে উত্তরে ভালুকা মডেল থানা অফিসা ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার (পিপিএম বার) ভালুকা ডট কম কে বলেন, মুক্তিপণ দাবী অপরাধ ইহা ক্ষমা করার অধিকার কারো নেই যদি এই বিষয়ে আমাকে ঐ ভূয়া ডাক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ অভিযোগ করে আমি অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব ।

উল্লেখ্য যে, নিউ সেবা হাসপাতালের মালিক লুৎফুর রহমানের যোগসাজসে ওই ক্লিনিকে নাম ফলক,ভিজিটিং কার্ড ও প্যাডে পি এইচ ডি সহ চিকিৎসার বিভিন্ন গ্রুপের সর্বোচ্চ ডিগ্রীর পরিচয় লিখে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার নামে এলাকার নিরিহ রোগীদের প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। ক্লিনিকের সামনে সাইনবোর্ডে ডাক্তারদের পরিচিতি বোডে লেখা রয়েছে“কিডনী, মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডাঃ আশরাফ উদ্দীন ( জুলফিকার) এম বি বি এস, পি এইচ ডি (জাপান) এক্স অনারারী সার্জন, মেডিসিন ও কিডনী রোগ বিভাগ, পিজি হাসপাতাল ঢাকা।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

ভালুকা বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই