তারিখ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

প্রবাসী আনোয়ারা ৪০ বছর পর খুঁজে পেল স্বজনদের

নেদারল্যান্ডস প্রবাসী আনোয়ারা ৪০ বছর পর খুঁজে পেল স্বজনদের  
[ভালুকা ডট কম : ১৮ জুলাই]
অভাবের তাড়না আনোয়ারাকে ৪০ বছর আগে হতদরিদ্র বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বজনদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল। অভাবের তাড়নায় পরিবর্তিত হয়েছে বাবা-মা। বদলে গেছে মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি। কিন্ত বদলে যায়নি শিকড়ের টান, মাতৃভূমির প্রতি ভালবাসা, মা-বাবা ও স্বজনদের প্রতি মমত্ববোধ। গত ২৬ বছর ধরে তারা বাবা-মা, স্বজন ও শিকড়ের সন্ধানে তার চেষ্টা ছিল বিরামহীন। মা-বাবা গত হয়েছে বহু বছর আগেই । বাংলায় কথা বলতে না পারলেও হারানো ভাই-বোনকে ফিরে পেয়ে তাদের জড়িয়ে ধরে বাবা, মা বলে চিৎকার করে কাঁদছিল। আর হারানো মেয়েকে ফিরে পেয়ে শত গ্রামবাসি ভিড় জমিয়েছে। আনোয়ারার সাথে তাদের চোখও ছিল অশ্রুসজল। এ ধরনের ঘটনার অবতারনা হয় রবিবার বিকালে গফরগাঁও উপজেলার খারুয়ামুকুন্দ গ্রামে।

গফরগাঁও উপজেলার খারুয়া মুকুন্দ গ্রামের ইন্তাজ আলী ও সমতা খাতুন দম্পত্তির অভাবী সংসার। ইন্তাজ আলী ও সমতা খাতুন রোগে-শোকে আক্রান্ত। কাজ-কর্ম করতে পারে না। শত চেষ্টা করেও তিন মেয়ে ও এক ছেলেসহ ৬ জনের সংসারে খাবার যোগাড় করতে পারে না। ১৯৭৮ সালের কোন এক সকাল বেলা ইন্তাজ আলী ও সমতা বুকে পাহাড় সমান কষ্টে নিয়ে গফরগাঁও রেলওয়ে ষ্টেশনে রাজধানী ঢাকাগামী লোকাল ট্রেনে তুলে দেন আড়াই বছর কন্যা শিশু মল্লিকা ও  পাঁচ বছর বয়সী শিশু কন্যা মাজেদাকে। গন্তব্য অজানা । হয়ত হৃদয়বান কোন মানুষের সহযোগিতায় ক্ষুর্ধাত দুই শিশুর আশ্রয় মিলে টঙ্গীর দত্তপাড়ার এক মাতৃসদনে। মাতৃসদনে মাজেদার নাম পরিবর্তিত হয় আনোয়ারা। সেখান  থেকে ১৯৭৮ সালে নেদারল্যান্ডের নিঃসন্তান দম্পতি এর্ভাট বেকার ও মেরিয়্যান্ট রেজল্যাগান্ট ৫ বছর বয়সী আনোয়ারাকে দত্তক নেন। আনোয়ারার ছোট বোন মল্লিকাওে (পরিবর্তিত নাম শম্পা ) দত্তক নেয় নেদারল্যান্ডসের অপর একটি নিসন্তান দম্পত্তি। এর পর থেকেই দুই বোনও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

দেখতে দেখতে সময় পারিয়ে যায়। যায় দিন, যায় মাস, বছর ঘুরে কখন যে ৪০ টি পার্বণ কেটে গেছে। আনোয়ারা নেদারর‌্যান্ডসে নাসিং-এ স্নাতক ডিগ্রী নিয়ে একটি হাসপাতালে সেবিকার কাজ করেন। ছোটবেলায় নেদারল্যান্ডে গিয়ে পালক পিতা-মাতার কাছে অতি যন্ত সহকারে বড় হতে থাকে আনোয়ারা। নেদারল্যান্ডের একটি এলাকায় একটি মেয়েকে দেখে তার মনে হয়েছিল তার ছোট বোন। আবার হারিয়ে ফেলে। ১৫ বছর চেষ্টার পর পালক বাবা-মা সহযোগিতায় ডিএনএ টেষ্টের মাধ্যমে তার হারানো বোন শম্পাকে খুজেঁ পায় আনোয়ারা। ১৯৯২ সাল থেকে আনোয়ারা বাংলাদেশে এসে তার বাবা-মা, ভাই-বোন, শিকড়ের খোঁজ করছিল। এই সময়ে নিসন্তান আনোয়ারাও বাংলাদেশ থেকে আজিয়া ও মুন নামে দুই কন্যা শিশুকে দত্তক নেয়। আনোয়ারা প্রতিবারই বাংলাদেশে এসে তার শিকড়ের সন্ধানে টঙ্গী ও আশেপাশের এলাকায় পোষ্টারিং করে এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে। প্রতিবারই ব্যর্থ ফিরে যান । এ বছর জানুয়ারী মাসে বাংলাদেশে এসে বাবা-মা, স্বজনদের খোজেঁ ব্যর্থ হয়ে অবশেষে যোগাযোগ করেন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির পরিচালক হানিফ সংকেতের সাথে। গত ৩০ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি মর্মস্পর্শী প্রতিবেদন বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানটি দেখছিলেন খারুয়া মুকুন্দ গ্রামের দলিল লেখক শ্যামল কুমার দত্ত। তিনি ইত্যাদির পচিালক হানিফ সংকেতের সাথে যোগাযোগ করে আনোয়ারার ভাই ছুতু মিয়া (৫৫) এবং ছুলেমাননেছার (৬০) ডিএনএ রির্পোট নেদারর‌্যান্ডস পাঠান। আনোয়ারা বেগম নিশ্চিত হন ছুতু মিয়া ও ছুলেমান নেছাই তার ভাই, বোন।

রোববার রাতে নেদারল্যান্ডস থেকে স্বামী থমাস, দত্তক দুই কন্যাসহ বাংলাদেশে আসেন আনোয়ারা। সোমবার দুপুরে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হয় তার ভাই ছুতু মিয়া ও ছুলেমান নেছার সাথে দেখার মাধ্যমে ।আনোয়ারা জানায়, মা-বাবা নেই খারাপ লাগছে। তবে আমি আমার শিকড়ের সন্ধান পেয়েছি । এতে আমি অনেক খুশি । পরিবার ও শিকড় থাকা সবার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন।#



সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অন্যান্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৪২ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই