তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানীর অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
যৌন হয়রানীর ঘটনার অভিযোগে নাট্যকলা বিভাগের এক  শিক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত প্রক্টরকেও অব্যহতি
[ভালুকা ডট কম : ১৮ জুলাই]
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানীর অভিযোগের ঘটনায় নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত ও প্রক্টর জাহিদুল কবিরকে অব্যহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইসমতআরা ভূইয়া ইলা, সহকারী অধ্যাপক নীলা সাহা, প্রভাষক নুসরাত শারমিন তানিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিন বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানী করে আসছিলেন। যেভাবে ওই তিন শিক্ষিকার সঙ্গে যৌন হয়রানী করত রুহুল আমিন, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ দৃষ্টি, চোখ টিপ, অশালীন কথাবার্তা, গায়ে হাত দেয়া সহ ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণভাবে ছবি এডিট করে পাঠানো হতো। সহকর্মী বলে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানীর উত্যক্ত করার  বিষয়টি চেপে আসছিলেন তারা। সংযত হওয়ার জন্য বেশ অনেকবার রুহুল আমিনকে বুঝিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সভা শেষে কয়েকজন শিক্ষকের সামনে পূনরায় যৌন হয়রানীর জন্য  উত্যক্ত করার ঘটনার  স্বীকার হয়ে বিষয়টি আর ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পারেননি তারা। পরে ওইদিন বিকেলে যৌন হয়রানীর স্বীকার তিন শিক্ষিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সকালে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন তিনি।এ ঘনায় দায়িত্ব অবহেলার কারনে প্রক্টর জাহিদুল কবিরকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান।

যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায়  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হককে প্রধান করে বাংলাদেশ কৃষি  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর একেএম জাকির হোসেন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবা কানিজ কেয়াকে ৩ সদস্য  করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

ইসমতআরা ভূইয়া ইলা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রুহুল আমিন আমাকে ও আমার দুই নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানী করে আসছিল। অনেক সহ্যের পর অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছি।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রুহুল আমিন বলেন, কয়েকজন মেধাবি শিক্ষার্থীকে মুখিখ পরীক্ষায় হিংসা পরায়ন হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অকৃতকার্য করায় ইলা ম্যাডামের সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়েছিল। প্রতিবাদ করায় সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে বানোয়াট অভিযোগ করে আমার সম্মানের হানি করেছে।

প্রক্টর জাহিদুল কবির বলেন, আপোষ-মিমাংসার জন্য নয়, আমার দায়িত্ববোধ থেকেই আমি ইলা ম্যাডামের  সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ভুল ধারনা পোষন করে আমাকে দোষারুপ করে  অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিন নারী শিক্ষককে যৌন হয়রানীর অভিযোগে নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত ও ভিকটিমদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় প্রক্টর জাহিদুল কবিরকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৪ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই