তারিখ : ২১ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ছাত্র গুরুতর আহত

নওগাঁয় শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ছাত্র গুরুতর আহত
[ভালুকা ডট কম : ০১ অক্টোবর]
বাড়িতে টিফিন খাওয়ার অপরাধে নওগাঁর বদলগাছীতে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে নাদিম হোসেন (১০) নামে এক স্কুল ছাত্রের চোখ গুরুত্বর জখম হয়েছে। ঘটনারপর এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহরিয়ার হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে উপজেলা শিক্ষা অফিস কর্মকর্তা তাকে উদ্ধার করে। রোববার উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের ‘বেগুনজোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ এ ঘটনা ঘটে। নাদিম হোসেন স্কুলের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র এবং বেগুন জোয়ার গ্রামের নান্নু হোসেনের ছেলে। এলাকাবাসী ওই শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তিসহ অপসারণের দাবী জানিয়েছেন।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্কুলের পাশেই মাঠ সংলগ্ন বাড়ি ছাত্র নাদিমের। টিফিনের সময় বাড়ি থেকে সে টিফিন খেয়ে আসে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহরিয়ার হোসেন ছাত্রদের কাছে জানতে চান কে কে বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে আসেনি। নাদিম সহ চারজন বাড়ি থেকে টিফিন না নিয়ে আসায় দুপুর ২টার দিকে তার অফিস কক্ষে ডেকে বেত্রাঘাত করেন। একটি বেত্রাঘাতের আঘাত নাদিমের বাম চোখে লাগায় গুরত্বর জখম ও ফোলা এবং রক্তক্ষরণ হয়। তখন নাদিম কাউকে কিছু না বলে বাড়িতে চলে যায়। বিষয়টি তার বাবা-মাকে গিয়ে বলে। এরপর এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের কক্ষে প্রধান শিক্ষক শাহরিয়ার হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রায় আড়াই ঘন্টা পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

অপরদিকে আহত ছাত্র নাদিমকে উদ্ধার করে প্রথমে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে অর্থোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগ আছে, ইতোপূর্বে প্রধান শিক্ষক শাহরিয়ার হোসেন ওই বিদ্যালয়ের চারজন ছাত্রীর শ্লীতহানি করেন। এরপর নিজ থেকে তিনি কয়েকদিনের জন্য বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করেন। পরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহায়তায় মোটা অংকের টাকায় বিষয়গুলো ধামাচাপা দিয়ে বিদ্যালয়ে বহালতবিয়তে তার দায়িত্ব পালন করছেন। ওই শিক্ষকের এমন ঘটনায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ভেঙে পড়েছে। অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের নিয়ে শঙ্কিত।

আহত নাদিমের সহপাঠি জেসমিন জানায়, নাদিমসহ কয়েকজন স্কুলে টিফিন নিয়ে না আসায় স্যার (প্রধান শিক্ষক) তাদের অফিসে ডেকে পাঠায়। এরপর স্যার বেত দিয়ে নাদিমকে দুটি আঘাত করে। স্যার তৃতীয় বার আঘাত করলে নাদিমের বাম চোখে লেগে ফুলে গিয়ে রক্ত ঝরে। এরপর নাদিম বাড়ি চলে যায়।

অভিভাবক ফুলবানু, মাহমুদা, আতিকুর ও সবুজ হোসেনসহ কয়েকজন জানান, ইতোপূর্বে কয়েকজন ছাত্রীকে শ্লীতাহানী করে প্রধান শিক্ষক শাহরিয়ার হোসেন। পরে ভুক্তভোগীকে চাপের মধ্যে রেখে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহায়তায় মোটা অংকের টাকা দিয়ে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেয়া হয়। আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। দ্রুত ওই শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তিসহ অপসারনের দাবী করেন তারা।

নাদিমের মা পেয়ারা খাতুন বলেন, টিফিনের সময় ছেলে খাবার খেয়ে স্কুলে যায়। এরপর কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে চলে আসে। তখন দেখি তার বাম চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। আমার ছেলেকে অন্যায় ভাবে মারপিট করা হয়েছে। ছেলের চোখ এখন ভাল হবে কিনা সন্দেহ আছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শাহরিয়ার হোসেনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বদলগাছী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আতাউর রহমান জানান, সরকার থেকে নির্দেশনা আছে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন থেকে বিরত থাকার। ইতোমধ্যে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই