তারিখ : ২১ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

পোশাক শিল্পে মজুরি বৃদ্ধির চাপ সামলাতে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু

পোশাক শিল্পে মজুরি বৃদ্ধির চাপ সামলাতে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু
[ভালুকা ডট কম : ১৫ অক্টোবর]
পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের নতুন মজুরি ঘোষণার পর অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় সামাল দিতে শিল্প মালিকরা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ নিয়েছে। তাছাড়া, মূলত ক্রয়াদেশের অভাব ও শ্রমিকের নতুন মজুরি কাঠামো সংক্রান্ত চাপ সামাল দিতে শিল্প পুলিশের আওতাধীন এলাকাগুলোয় ছোট দু/একটি কারখানা বন্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।

কারখানার শ্রমিক প্রতিনিধিদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজে যুক্ত আছেন, এমন অভিজ্ঞ শ্রমিক, বয়স্ক এবং তুলনামূলক অনুৎপাদনশীল হিসেবে শনাক্ত কর্মীদের চাকরিচ্যুত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষ। কিছু কারখানা তাদের হেলপারের সংখ্যা কমিয়ে আনতে শুরু করেছে। শিক্ষানবিশ শ্রমিকদের দিয়েই মালিকরা নতুন মজুরি কাঠামোর চাপ সামলানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে ধারণা করছেন শ্রমিকরা।

কারখানার শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গাজীপুর ও টঙ্গীর ডজনখানেক  কারখানার শ্রমিকদের আরো ভালোভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়ে বলা হয়েছে, অন্যথায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আগে ছাঁটাই করা হবে।

উল্লেখ্য, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য সরকার গত ১৩ সেপ্টেম্বর আট হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করেছে। আগে এই মজুরি ছিল পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা। আগামী ডিসেম্বর থেকে এই মজুরি কার্যকর হবে। তবে, ন্যূনতম আট হাজার টাকার এই মজুরি প্রত্যাখ্যান করেছে পোশাক শিল্পের শ্রমিক সংগঠনগুলো। ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকার দাবিতে অনড় সংগঠনগুলো বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচিও পালন করছে।

পোশাক কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই প্রসঙ্গে সরকার সমর্থক জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি এবং নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, বড় কারখানাগুলিতে এখনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে যারা সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করছে এমন ছোট ও মাঝারি কারখানায় নতুন মজুরি কাঠামো অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, এমন অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা তালিকা তৈরি করছেন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলছেন, যাতে শ্রমিক তার ন্যায্য  পাওনা থেকে বঞ্চিত না হয়।

এ প্রসঙ্গে মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চেয়েছিলাম ন্যূনতম মজুরি সাত হাজার টাকা হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আট হাজার টাকা করার নির্দেশ দেওয়ার পর আমরা তা মেনে নিয়েছি। তবে একলাফে  ৫১ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ অবস্থায় ব্যবসায় টিকে থাকতে কেউ কেউ শ্রমিক কমিয়ে আনবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে গণহারে ছাঁটাই হচ্ছে না। অনেক মালিক আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে বেআইনিভাবে কেউ কিছু করতে পারবে না। অনেক মালিক জানিয়েছে, তারা মজুরি বৃদ্ধির প্রভাব কেমন হবে সেটা মূল্যায়ন করছে। অতিরিক্ত চাপ হয়ে গেলে ডিসেম্বর নাগাদ কারখানা বন্ধ করে দেবে তারা।

সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন শিল্প পুলিশ- দুটি সংস্থাই জানিয়েছে, নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে চাপের মধ্যে আছে গার্মেন্ট কারখানার মালিকপক্ষ। তবে কোনো ধরনের অস্থিরতার অভিযোগ এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়নি। এর আগে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গত পাঁচ বছরের মূল্যস্ফীতি এবং শ্রমিকদের ব্যয়ের বিষয়টি মূল্যায়ন করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, পোশাক শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরি কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। এটা তাদের নিশ্চিত জীবন যাপনের জন্য কষ্টকর। সিপিডির প্রস্তাব ছিল ১০ হাজার ২৮ টাকা। অন্তত এখনো এই প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রী বিবেচনায় নিতে পারেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে আয় আরও বেড়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ২ হাজার ৮১২ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই শিল্পে ৪৪ লাখ জনশক্তি কর্মরত, যাদের অধিকাংশই নারী।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৩৯ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই