তারিখ : ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

সখীপুরে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে ভাড়া দোকানে

সখীপুরে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে ভাড়া দোকানে
[ভালুকা ডট কম : ১৭ এপ্রিল]
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বাজারে টিনের ঘর ভাড়া করে কৈয়ামধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলছে। ওই বিদ্যালয় একমাত্র পাকা ভবনের বিভিন্নস্থানে ফাটলসহ পলেস্তারা উঠে যাওয়ার বিষয়টি গত এক বছর ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও  তারা কোনও ব্যবস্থাই নেননি। ফলে জীবনের ঝুকি নিয়েই বিদ্যালয়ের ছাদ বাঁশের সাথে ঠেকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কোন রকমভাবে চলছিল।

অবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই ঝুকিপূর্ণ বিদ্যালয়টিতে পরিদর্শনে গিয়ে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। বিকল্প কোন ভবন না থাকায় শিক্ষকরা না বেকায়দায় পড়ে যায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে। অবশেষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বিদ্যালয়ের পাশের বাজারে দুইটি টিনের  দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করেন পাঠদান কার্যক্রম। দুইটি রুমের ভাড়া হিসেবে ওই শিক্ষক তার প্রতি মাসের বেতন থেকে ১হাজার টাকা করে দিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে জীবনের ঝুকি নিয়েই পরিত্যক্ত ওই ভবনটিতে শিক্ষকরা অফিসের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। টিন সেডের ওই দোকান ঘরে ঘরটিতে শিশু শিক্ষার্থীদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পাঠদান অনেকটাই ব্যহত হচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলার কৈয়ামধু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট ওই ভবনটি নির্মাণকরা হয়। এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ওই ভবনের ছাদের ঢালাই ভেঙে বিভিন্নস্থানে রড বের হয়ে গেছে। বর্তমানে ভবনের প্রতিটি জয়েন্টে জয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনও সময় ওই ভবনটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন-বিদ্যালয় ভবনের ছাদ, পিলার ও বীম ফেঁটে গেছে। আশষ্কা এড়াতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ছাদ ঠেকা দিয়ে ক্লাস চলছিল। মাঝে মধ্যেই ক্লাস চলাকালীন সময়েও পলেস্তারা ভেঙে পড়তো। বিষয়টি দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্টদের জানালেও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। পরে এ বছররের জানুয়ারি মাসে ইউএনও স্যার এসে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে যান।

তিনি আরও বলেন,ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনার পর বিকল্প কোনও পথ না পেয়ে বিদ্যালয়ের পাশের বাজারে টিনের ঘর ভাড়া করে কোনও রকমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ওই ঘরটিতেও জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। সাময়িকভাবে ক্লাস চালানোর জন্য টিনের ঘর তৈরি বাবদ শিক্ষা অফিস থেকে তিন লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল। সেটিও এখনও পাইনি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্রে দাশ বলেন, ওই বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ভবনের চাহিদা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান বলেন, ওই বিদ্যালয়ের ভবনটি পরত্যিক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন পাকা ভবন বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। সাময়িকভাবে ক্লাস চালানোর জন্য টিনের ঘর তৈরি বাবদ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তিন লাখ টাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

শিক্ষাঙ্গন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৫৮৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই