তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় গবাদি পশু লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগ,আতঙ্কে খামারীরা

নওগাঁয় গবাদি পশু লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় আতঙ্কে ও শঙ্কায় রয়েছেন খামারীরা
[ভালুকা ডট কম : ০৪ অক্টোবর]
নওগাঁয় হঠাৎ করেই জেলার রাণীনগর, মহাদেবপুরসহ আরো কয়েকটি উপজেলায় গবাদি পশুর ভাইরাস জনিত চর্মরোগ 'লাম্পি স্কিন ডিজিজ' এর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে চরম আতঙ্কিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা। তারা বলছেন এ রোগের সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন না থাকায়  প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা আরো বাড়ছে। তবে শঙ্কিত না হয়ে খামারিদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তারা।

মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের খামারিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে গরুর চামড়ার উপরি অংশে টিউমার জাতীয় উপসর্গ ও বসন্তের মতো গুটি গুটি দেখা যায়। এরপর দু-একদিনের মধ্যেই গরুর শরীরজুড়েই গুটি গুটি হয়ে ঘা-এ পরিণত হচ্ছে। এ সময় গরুর শরীরে ১০৪ থেকে ১০৬ ডিগ্রী তাপমাত্রার জ্বর দেখা দেয় এবং গরু খাওয়া ছেড়ে দেয়। অনেক সময় গরুর বুকের নিচে পানি জমে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে এবং ক্ষতস্থান থেকে মাংস খুলে-খুলে পড়ছে।

উপজেলা প্রণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, 'লাম্পি স্কিন ডিজিজ' রোগটি প্রথম ১৯২৯ সালে জাম্বিয়াতে দেখা দেয়। পরে আফ্রিকা মহাদেশের সর্বত্রে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে এবং ২০১৪-২০১৫ সালে আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, কাজাকিস্থানসহ আশেপাশের দেশসমূহে এ রোগ দেখা দেয়। ২০১৬ সালে গ্রীস, সাইপ্রাস, বুলগেরিয়া, সার্বিয়া, কসোভোসহ আশেপাশের দেশসমূহে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৯ সালে চীন ও ভারতে আক্রান্তের পরেই বাংলাদেশে এ রোগটি অতি সম্প্রতি প্রথম বারের মতো দেখা দেয়। এ রোগ মশা, মাছি, আটালি, আক্রান্ত পশুর লালা, নাক-চোখের ডিসচার্জ, ষাড়ের বীর্য, আক্রান্ত গরু-মহিষের দুধ এবং ব্যবহারিত ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মধ্যমে ছড়ায়। অনুকূল পরিবেশে এ ভাইরাজ ছয় মাস পর্যন্ত জীবিতি থাকে। ভাইরাস জনিত এ চর্মরোগে শুধুমাত্র গরু-মহিষ আক্রান্ত হয়। 'লাম্পি স্কিন ডিজিজ' রোগে আক্রান্ত গবাদিপশু দুর্বল হয়ে ওজন কমে যায়, দুধ উৎপাদন হ্রাসস পায় এবং চামড়ার গুনগতমান নষ্ট হয়ে যায়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন,  ‘ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজে জেলার রাণীনগর ও মহাদেবপুর উপজেলাতে গবাদিপশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মহাদেবপুর উপজেলার এনায়েতপুর, রাইগাঁ ও চেরাগপুর ইউনিয়নে এ পর্যন্ত ২’শ গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগে কোথাও গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। লোকজনকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ এবং ফ্রি চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগে শুধুমাত্র গরু-মহিষ আক্রান্ত হয় কিন্তু মানুষ আক্রান্ত হয় না।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

কৃষি/শিল্প বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ৯২৮ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই