তারিখ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

সংবাদ শিরোনাম

বিস্তারিত বিষয়

রাণীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চলছে ৩জন ডাক্তার দিয়ে

রাণীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চলছে ৩জন ডাক্তার দিয়ে,চালু হয়নি নতুন ভবন
[ভালুকা ডট কম : ২১ অক্টোবর]
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি চলছে ৩জন চিকিৎসক দিয়ে। এছাড়াও দীর্ঘদিন যাবত আধুনিক মানসম্মত নতুন ৫০শয্যা বিশিষ্ট ভবন পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু না হওয়ায় চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। স্বাস্থ্য সেবাকে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষে ১৯৮৪ইং সালে উপজেলা সদরে স্থাপন করা হয় ৩১শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

দীর্ঘদিন চিকিৎসক সংকটে ভুগছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। বর্তমানে এখানে উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪লাখ মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র ৩জন মেডিকেল কর্মকর্তা। এছাড়াও নিয়মানুসারে এখানে ১১জন চিকিৎসক থাকার কথা। দীর্ঘদিন যাবত ফাঁকা রয়েছে ১জন বিশেজ্ঞ, ১জন সার্জন, ১জন গাইনী ও ১জন মেডিসিন চিকিৎসকের পদ। ৩জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর স্থানে রয়েছে ১জন। এছাড়াও আশির দশকে নির্মাণ করা আবাসিক ভবনগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। ইতিমধ্যেই ডরমেটরি বন্ধ হওয়াসহ ৫টি আবাসিক ভবন পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে অনেক বছর আগে। তাই বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যা আর সংকটে জর্জড়িত। অপরদিকে নতুন ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে ২০১২ইং সালের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার উন্নিত করা হয়। কিন্তু আজও ৫০ শয্যা পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু না হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভর্তিকৃত রোগীরা চাহিদা মত শয্যা না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ইং সালে উপজেলা সদরের পশ্চিম বালুভরা মৌজায় ৬.২৫একর জমি সরকার ক্রয় করে প্রথমে ৩১শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাদের চিকিৎসা সেবা সঠিক ভাবে প্রদান করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের একান্ত প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৩১থেকে ৫০শয্যায় উন্নত করার লক্ষ্যে ১৯শয্যা বিশিষ্ট তিন তলা ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১২ইং সালে। এরপর হস্তান্তর হলেও ওই ওয়ার্ডের জন্য চিকিৎসক,  জনবল, ওষুধ, রোগীদের খাদ্যসহ অন্যান্য উপকরণের সংকটের কারণে ৭বছর ধরে নির্দিষ্ট বরাদ্দ না পাওয়ায় অত্যাধুনিক ভবনের কার্যক্রম চালু হচ্ছে না বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: কে,এইচ,এম ইফতেখারুল আলম খাঁন বলেন, এখানে আউটডরে প্রতিদিন প্রায় ৪শত মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। চিকিৎসক সংকট থাকার কারণে আমি নিজেও রোগী দেখি। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসক সংকট চরম আকার ধারন করেছে। এছাড়াও অন্যান্য সংসকট ও সমস্যা তো রয়েছে। অবকাঠামোগত সমস্যা থাকায় ১৯শয্যা ওই ভবনটি চালু করা যাচ্ছে না। তারপরও  রাণীনগর বাসীর যথাযথ চিকিৎসা দিতে আমাদের পেশাদারিত্বের কোন ত্রুটি নেই। প্রয়োজনী অসুবিধাগুলো সমাধানের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম বলেন হাসপাতালটি বর্তমানে আগের অবস্থা থেকে অনেকটাই উন্নতির দিকে। আমি এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক, জনবলসহ অন্যান্য উপকরন সরবরাহ করে অতিদ্রুত ৫০শয্যার কার্যক্রম চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি। এছাড়াও আধুনিক মানের সেবা যাতে এই উপজেলার মানুষরা এই হাসপাতাল থেকে পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। আশা রাখি অতিদ্রুত এই কার্যক্রমগুলো এখানে চালু করা হবে।#





সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২২৮ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই