তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার

সংবাদ শিরোনাম

ভালুকার করোনা আপডেট

২৯ জুন ২০২০, সোমবার
আক্রান্ত
২৪ ঘন্টা মোট
৫ জন ২২৯ জন
সুস্থ
২৪ ঘন্টা মোট
০ জন ৮২ জন
মৃত্যু
২৪ ঘন্টা মোট
০ জন ৩ জন

বিস্তারিত বিষয়

নওগাঁয় তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব

নওগাঁয় তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের মহোৎসব
[ভালুকা ডট কম : ০২ জুন]
দেশের উত্তরাঞ্চলের খাদ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুরে ফসলি জমিতে অবাধে চলছে পুকুর খনন। ফলে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে আবাদি জমি। মহাদেবপুর ধান ও সবজি চাষ নির্ভর একটি উপজেলা। এখানে উৎপাদিত খাদ্যশস্য স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় খাদ্য ভান্ডারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে এবং উপজেলার অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছে। বিশেষ করে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক পড়ায় ধান ও সবজি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এক শ্রেণির পুকুর ব্যবসায়ীরা দিনরাত বিরতিহীন পুকুর খনন করে সেই মাটি আবার মহাদেবপুর, পত্নীতলা, মান্দা ও নওগাঁ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছেন। এতে কৃষকরা হারাচ্ছেন তাদের উর্বর তিন ফসলি জমি। অন্যদিকে পুকুর ব্যবসায়ীরা আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে এসকেবেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে জমি খনন করে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জমির শ্রেণি পরিবর্তন হচ্ছে অন্যদিকে আবাদি জমিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ব্যাহত হচ্ছে সেচ ব্যবস্থাও। নদী-নালা খাল-বিল বাদে উপজেলায় প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। শ্রেণী ভেদে প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোন না কোন ফসল আবাদ হয়। গত দু’বছরে উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় প্রায় ৮’শ বিঘা জমি পুকুরে পরিণত হয়েছে। কৃষকরা প্রতি বিঘা জমি ১০-১২ হাজার টাকায় ৫-১০ বছর মেয়াদে চুক্তিনামা করে পুকুর খননের জন্য ব্যবসায়ীদের লিজ দিচ্ছেন। সে সব জমিতে খননযন্ত্র বসিয়ে চারদিকে বাঁধ দিয়ে ১০-১২ ফুট গভীর করে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব। আবর সেই জমির মাটি প্রতি গাড়ি (ট্রাক্টর) ৪০০-৫০০ টাকায় বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছেন পুকুর ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহাদেবপুর সদর ইউনিয়নের খাপড়া মৌজার ৬বিঘা তিন ফসলি উর্বর জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। উপজেলা সদরের কাচারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা কালাম কাজী ও তার ছেলে সাঈদ কাজী ভূমি আইন উপেক্ষা করে ওই পুকুর খনন করছেন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে পুকুর খননের বিষটি স্থানীয়রা গত ৩১ মে রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সরেজমিনে গিয়ে খনন কাজ বন্ধ করে দেন এবং এসকেবেটর এর চাবি জব্দ করেন। এদিন সন্ধ্যায় কালাম কাজী ও তার ছেলে সাঈদ কাজী উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অদৃশ্য শক্তি প্রয়োগ করে আবারো দুটি এসকেবেটর বসিয়ে দুর্বার গতিতে খনন কাজ শুরু করেন। খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, এক শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী আবাদি জমির মাটি বিক্রির জন্য পুকুর খনন করছেন। গভীর করে পুকুর খনন করায় আশপাশের জমি ধসে ও দেবে যাচ্ছে।

পুকুর খননের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাঈদ কাজী বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই পুকুর খনন করছি। গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করলে প্রশাসন মন খারাপ করবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, পুকুর খননের ফলে ফসলি জমি হ্রাস পাচ্ছে। এতে ফসলের উৎপাদন কমছে। তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুর খনন করতে নিষেধ করেছি। তবে কেউ মানছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, সাঈদ কাজীকে তিন ফসলি জমিতে পুকুর কাটতে নিষেধ করা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। শ্রেণি পরিবর্তন করে ফসলি জমিতে পুকুর কাটা যাবে না। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোকে ফসলি জমিতে পুকুর খননকারীদের তালিকা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#




সতর্কীকরণ

সতর্কীকরণ : কলাম বিভাগটি ব্যাক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য,আমরা বিশ্বাস করি ব্যাক্তির কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতায় তাই কলাম বিভাগের লিখা সমূহ এবং যে কোন প্রকারের মন্তব্যর জন্য ভালুকা ডট কম কর্তৃপক্ষ দায়ী নয় । প্রত্যেক ব্যাক্তি তার নিজ দ্বায়ীত্বে তার মন্তব্য বা লিখা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ কে দিচ্ছেন ।

কমেন্ট

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

  • ভালুকা ডট কম এর নতুন কাজ আপনার কাছে ভাল লাগছে ?
    ভোট দিয়েছেন ১২৮৩ জন
    হ্যাঁ
    না
    মন্তব্য নেই